26 October 2026

আটাশতম_শ্রাবণ (১০)

রেদোয়ান আসিফ রিসান · প্রকাশ: 28 Sep 2026 · আপডেট: 26 Oct 2026 · 2 মিনিট পড়া · 68 ভিউ

মিরাজ ফুলগুলোমেহেরীনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "আজ আমাদের বাগানে দেখলাম ফুটে আছে। ভাবলাম তোমার প্রিয় ফুল, মেহেরীন।তাই নিয়ে এলাম। দোস্ত নিশান, রাগ করিস না আবার!"

মেহেরীন ইতস্তত করে ফুলগুলোনিল। নিশানেরচোখ তখন আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলছে। সে কোনো কথা না বলে সেখান থেকে হনহন করে হেঁটে চলে গেল। সে পেছন ফিরে দেখল না যে মেহেরীনফুলগুলো হাতে নিয়ে কতটা অসহায় ভাবে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।

সে রাতে নিশান তার ডায়েরিতে লিখল:

"আজ কাঠগোলাপের সুবাসটা খুববিশ্রী লাগছিল। যে ফুল আমাদেরভালোবাসার প্রতীকছিল, আজসেটা ঈর্ষারহাতিয়ার হয়েউঠেছে। মিরাজখুব সুক্ষ্মভাবে আমাদের মাঝে দেয়ালতুলছে, আরমেহেরীন সেইদেয়ালের ইটগুলোসাজাতে ওকেসাহায্য করছে।আমি কিহার মেনেনেব? নামেহেরীন, তোমাকেহারানো মানেআমার নিজেরমৃত্যুকে বরণকরে নেওয়া।কিন্তু আমিকী করেবোঝাব যেশত্রু আমাদেরখুব কাছেইবসে আছে?"


কলেজ জীবনের শেষ মাসগুলোযেন বালির ঘড়ির মতো দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল। এইচএসসিপরীক্ষার পাহাড়সমচাপ, কোচিং সেন্টারের দৌড়ঝাঁপআর ভবিষ্যতেরঅনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতি।কিন্তু এই সবকিছুর ভিড়ে নিশান আর মেহেরীনের প্রেমেরসুতোটি দিন দিন জট পাকিয়ে যাচ্ছিল।মিরাজ যে বিষবৃক্ষটি রোপণ করেছিল, তা এখন ডালপালামেলতে শুরু করেছে।

নিশান লক্ষ্য করল, মেহেরীনএখন আর আগের মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলে না। তাদের দেখা হওয়ার সময়গুলোএখন দীর্ঘ নীরবতায় ডুবে থাকে। নিশান বারবার বলতে চেয়েছে, "মিরাজকেবিশ্বাস করো না মেহেরীন",কিন্তু প্রতিবারইতার কণ্ঠরোধহয়ে গেছে। সে ভেবেছে,ভালোবাসলে তো বিশ্বাস এমনিতেইথাকার কথা; বারবার মুখ ফুটে কেন প্রমাণের দাবি করতে হবে? এই অতিরিক্তআত্মসম্মানবোধই নিশানেরজন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

সেদিন ছিল টেস্ট পরীক্ষারশেষ দিন। পরীক্ষা শেষে সবাই যখন বাঁধভাঙা উল্লাসেমেতেছে, মিরাজ তখন নিশানকেআলাদা করে ডেকে নিয়ে গেল কলেজের পেছনের নির্জন গ্যারেজের কাছে। জায়গাটা ছায়াঘেরাএবং নির্জন।

মিরাজ খুব চিন্তিত মুখ করে বলল, "নিশান, বন্ধু হিসেবে একটা কথা বলা আমার দায়িত্ব।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

একটি মন্তব্য লিখুন