দুই বছর একা দাঁড়িয়েথাকতে পারলে, বাকি জীবন পাহারা দিতে পারব না?"
ঠিক সেই মুহূর্তে লাইব্রেরিরদরজায় দেখা গেল মিরাজকে।সে ভিজে একসার হয়ে এসেছে। চুল দিয়ে টপটপ করে জল ঝরছে। ওদের দুজনকে ওভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে থাকতে দেখে মিরাজেরচোখে মুহূর্তেরজন্য একটা ক্রূর দৃষ্টি ফুটে উঠল, কিন্তু পরক্ষণেইসে সেটা ঢেকে ফেলে এক অমায়িক বন্ধুত্বের হাসি দিল।
"আরে, তোরা এখানে! আমি সারা কলেজ খুঁজছি তোদের। নিশান, দোস্ত, তোকে প্রিন্সিপাল স্যার ডাকছেন। মনে হয় তোর এসএসসির মার্কশিটনিয়ে কোনো ঝামেলা হয়েছে,"মিরাজ খুব বন্ধুবৎসল গলায় বলল।
নিশান ঘাবড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়াল। "প্রিন্সিপালস্যার? এখন? কিন্তু অফিস তো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা।" "আরেস্যার স্পেশালিবসে আছেন। জলদি যা। আমি মেহেরীনকেক্লাসরুমে পৌঁছে দিচ্ছি," মিরাজ খুব আশ্বস্তকরার ভঙ্গিতেবলল।
নিশান সরল মনে মিরাজকেবিশ্বাস করল। সে দ্রুত পায়ে প্রিন্সিপালস্যারের রুমের দিকে চলে গেল। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে দেখল রুম তালাবদ্ধ।অফিস একদম ফাঁকা। নিশানেরমনে একটা খটকা লাগল। সে যখন প্রায় দশ মিনিট পর ফিরে এল, দেখল করিডোরেমিরাজ আর মেহেরীন দাঁড়িয়েকথা বলছে। মিরাজ মেহেরীনেরখুব কাছে ঝুঁকে কথা বলছিল, আর মেহেরীনকে দেখে মনে হচ্ছিল সে ভীষণ অস্বস্তিতে আছে।
নিশানকে দেখে মিরাজ সরে দাঁড়াল। "ওহ, স্যার কি চলে গেছেন? মেবি ভুল ইনফরমেশন ছিল। সরি রে দোস্ত।" মিরাজ চলে যাওয়ার পর নিশান মেহেরীনের কাছে গেল। দেখল মেহেরীনের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। "কী হয়েছে মেহেরীন?ও কী বলছিল?" নিশান অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করল।
মেহেরীন মাথা নিচু করে রইল কিছুক্ষণ।তারপর অস্ফুট স্বরে বলল,
"তেমন কিছু না। ও বলছিল তুমি নাকি গত দুই বছর ঢাকায় এক মেয়ের সাথে খুব ঘুরতে। ও নাকি সব দেখেছে।আমি বিশ্বাসকরিনি নিশান, কিন্তু ও এত ডিটেইলসবলছিল যে আমার বুকটা কেঁপে উঠছিল।"
নিশানের মাথায় রক্ত চড়ে গেল। "অন্য মেয়ে? ও কি পাগল হয়েছে? আমি তো তোমাকে ছাড়া আর কাউকেই চিনি না এ শহরে। আমি তো শুধু তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি!"
মেহেরীন নিশানেরহাত চেপে ধরল। তার চোখে জল।
"আমি জানি নিশান। আমি জানি ও মিথ্যা বলছে। কিন্তু ও কেন এসব করছে? ও তো তোমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।" নিশান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে বুঝতে পারল না, বন্ধুত্বের আড়ালে মিরাজ আসলে তাদের বিশ্বাসেরভিতটাই নড়িয়ে দিতে চাইছে।
মিরাজ ছিল অত্যন্ত ধুরন্ধর।সে জানত সরাসরি আক্রমণ করলে নিশান আর মেহেরীনআরও কাছাকাছিআসবে। তাই সে বেছে নিল মনস্তাত্ত্বিকপথ। মিরাজ একদিন নিশানকেতার বাসায় দাওয়াত দিল। নিশান তার সেই পুরনো বন্ধুকে সন্দেহ করতে পারল না।
সেখানে আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে মিরাজ বাথরুমে যাওয়ার বাহানা করে নিশানকে একা বসিয়ে রেখে তার ডায়েরিটা টেবিলের ওপর খোলা ফেলে রাখল। নিশান অনিচ্ছাসত্ত্বেও ডায়েরির একটা খোলা পাতার দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেল।
