অপ্রমেয় করুণা
এই ধরণী সৃজিত হইয়াছে এক নিগূঢ় পূর্ণতায়; এখানে অভাবের ছায়া নাই, রহিয়াছে কেবল অযুত-নিযুত নেয়ামতের সমারোহ। বিধাতা যখন তাঁহার সৃষ্টিসম্ভারের দিকে আমাদিগকে চাহিয়া দেখিতে বলেন, তখন ললাট শ্রদ্ধায় অবনত হইয়া আসে।
"ফাবি আইয়্যালা রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান"—এই পবিত্র বাণীর অন্তরালে যে শাশ্বত সত্য ধ্বনিত হইতেছে, তাহা সাহিত্যের ভাষায় ব্যক্ত করিতে গেলে বলিতে হয়:
"হে মানব ও দানবকুল! তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ কোন্ কল্যাণময় দানকে তোমরা অস্বীকার করিবে? তোমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি রন্ধ্রে, নিশ্বাসের প্রতিটি স্পন্দনে এবং মহাবিশ্বের অমেয় বিস্তারে তাঁহার যে অবারিত করুণাধারা প্রবহমান, কোন্ স্পর্ধায় তোমরা তাহা উপেক্ষা করিবে?"
আমরা যদি নিভৃত রজনীতে নিজ আত্মার গভীরে অনুসন্ধান করি, তবে দেখিতে পাইব যে, প্রতিটি দুঃখের আড়ালে লুকায়িত রহিয়াছে সহস্র সুখের বীজ। মহাকাল তাহার গতিপথে আমাদিগকে যে অভিজ্ঞতার সম্পদে সমৃদ্ধ করে, তাহাও তো এক অনন্য নেয়ামত। প্রকৃতির ঋতুচক্রের ন্যায় আমাদের জীবনের উত্থান-পতনও সেই মহান শিল্পেরই অংশ। সুতরা্ং, রিক্ততার যে হাহাকার আমরা লোকসমাজে শুনিয়া থাকি, তাহা কেবল মোহাবৃত দৃষ্টির বিভ্রান্তি মাত্র। প্রকৃতপক্ষে, এই পৃথিবী এক অনন্ত ভাণ্ডার, যেখানে করুণার সুধা কদাপি নিঃশেষ হয় না। স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ নেয়ামতসমূহ আমাদের অন্তরে ও বাহিরে ওতপ্রোতভাবে জড়াইয়া রহিয়াছে। এই মহাবিশ্বের বিশালতার তুলনায় মানুষ অতিশয় নগণ্য হইলেও, স্রষ্টা তাহাকেই করিয়াছেন শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন। এই পরম সম্মান ও ভালোবাসার পর কোনো অস্বীকারের অবকাশ থাকিতে পারে না। অতএব, আসুন আমরা আমাদের নিজেদের সেই চিরন্তন সত্যের সেবায় নিয়োজিত করি। জীবনকে এক পূর্ণ
উপাসনারূপে গণ্য করিয়া সেই পরম দাতার প্রতি অবনত মস্তকে বলি—প্রভু, তোমার কোন্ দানকে অস্বীকার করিবার সাধ্য আমাদের আছে? তুমিই আদি, তুমিই অন্ত এবং তোমারই করুণায় এই নশ্বর পৃথিবী অবিনশ্বর সৌন্দর্যে ভাস্বর।
~রেদোয়ান আসিফ রিসান

