ধীরে অন্ধকারের মিলিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখন রাহিলের মনের গভীর থেকে উঠে আসা হাহাকারগুলো লেখার রূপ নিল—
কোন একদিন রাস্তার ধারের সোডিয়াম লাইটের আলোয় যখন দেখবেন আপনার জায়গাটা অন্য কেউ দখল করে নিয়েছে তখন হয়তো আপনি স্তব্ধ হয়ে কয়েক সেকেন্ড সেখানে দাঁড়িয়ে আকাশের তারা গুলো গুনতে থাকবেন,,
যে মানুষটার সাথে আপনি রাত জেগে আকাশের তারা গুনার স্বপ্ন দেখতেন আজ সে মানুষটা আপনাকে একা করে দিয়ে অন্য কারো সাথে একই আকাশের তারা গুনছে, চাঁদ দেখছে।
ঠিক সেই মূহুর্তে এই মানুষটার প্রতি আপনার এক আকাশ পরিমাণ ঘৃণা জন্মাবে, কিন্তু আপনি পারবেন না তাকে মন থেকে ঘৃনা করতে,,,
তখনই হয়তো অনুভব করবেন,
আপনি কতোটা নিঃস্ব হয়ে গিয়েছেন ভেতরে ভেতরে,
আর চোখের কোনায় জমে থাকা জলটা আড়াল করতে
হয়তো ব্যস্ত হয়ে যাবেন মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখার অভিনয়ে।
তবুও,
আপনার মন বলবে,
"হয়তো সে ফিরে আসবে একদিন, হয়তো সবকিছু আবার ঠিক হবে..."
এই 'হয়তো' গুলোই হবে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ।
আপনি দেখবেন, সে আপনার দেয়া সেই চুড়ি, কিংবা শাড়ি পরে ঘুরছে—
মাথা নিচু করে মোবাইলের পুরোনো মেসেজগুলো পড়তে থাকবেন,
কারণ তখনও আপনি বিশ্বাস করবেন—ভালোবাসা মানে ত্যাগ।
কিন্তু আজ, সেই মানুষটা আপনাকে নয়,
অন্য কারো হাত ধরে হাঁটছে,
আর আপনার দেয়া জিনিসগুলো যেন আপনাকেই ব্যঙ্গ করে ফিরছে বাতাসে।
আপনি হয়তো দূর থেকে তাকিয়ে থাকবেন,
চোখে কোনো জল থাকবে না,
শুধু একটা চাপা হাসি ফুটবে মুখে—
হাসি নয়, আসলে
একটি স্বর বলবে—
"এভাবে তো আর বাঁচা যায় না, এবার নিজেকে খুঁজতে হবে।"
লেখা শেষ করে রাহিল এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। স্ক্রিনের নীলচে আলোয় তার ভেজা চোখ দুটো তখন চকচক করছে। রাতের ঠান্ডা বাতাসটা যেন তার বুকের ভেতরের আগুনটাকে আরও বাড়িয়ে দিল। রাহিল ফোনটা পকেটে গুঁজে আবার হাঁটতে শুরু করল—অচেনা কোনো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে, যেখানে ফাবিহার কোনো স্মৃতি নেই।
