26 October 2026
উপন্যাস

আটাশতম_শ্রাবণ (05)

রেদোয়ান আসিফ রিসান · প্রকাশ: 10 Sep 2026 · আপডেট: 25 Oct 2026 · 1 মিনিট পড়া · 67 ভিউ

একটা শেলফের আড়ালে দাঁড়িয়ে জীবনানন্দ দাশের একটা কবিতার বই হাতে নিল।

ঠিক তখনই শেলফের ওপাশ থেকে কারো চুড়ির হালকা টুংটাং শব্দ ভেসে এল।

নিশানের হাতটা মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল। শরীরের রক্ত যেন হিম হয়ে আসছে। এই শব্দটা... এই রিনরিন সুরটা তার খুব চেনা। সে কি ভুল শুনছে? দুই বছর ধরে যে শব্দটা সে নিজের কল্পনাতে লালন করেছে, সেটা আজ এই নতুন কলেজের লাইব্রেরিতে কোত্থেকে আসবে? সে কাঁপা কাঁপা পায়ে শেলফটা ঘুরে ওপাশে গিয়ে দাঁড়াল।

সেখানে একটি মেয়ে তার চুলগুলো ঘাড়ের কাছে ছোট করে ক্লিপ দিয়ে আটকানো। জানালার কাঁচ চুইয়ে আসা ম্লান আলো তার চুলে পড়ে এক অদ্ভুত আভা তৈরি করেছে। মেয়েটি নিচু হয়ে নিচের দিকের শেলফ থেকে একটা বই খুঁজছে।

নিশান অস্ফুট স্বরে বলল, "মেহেরীন?"

মেয়েটি স্থির হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ডের এক নিস্তব্ধতা, যা যেন কয়েক যুগের চেয়েও দীর্ঘ মনে হলো নিশানের কাছে। লাইব্রেরির ঘড়ির কাঁটার শব্দটাও যেন তখন বন্ধ হয়ে গেছে। তারপর ধীরে ধীরে মেয়েটি ঘুরে দাঁড়াল।

হ্যাঁ, সেই চোখ। সেই চশমার পেছনে লুকিয়ে থাকা মায়াবী দৃষ্টি, যা নিশানকে হাজারটা নির্ঘুম রাত উপহার দিয়েছে। দুই বছরে মেয়েটা অনেক বদলে গেছে। আগের সেই চটপটে চঞ্চলতাটা যেন ঢেকে গেছে এক ধরণের গাম্ভীর্য আর আভিজাত্যে। কিন্তু সেই চাহনির মায়াটা এখনো আগের মতোই আছে। মেহেরীনের হাতে একটা মোটা বাঁধানো খাতা। নিশানকে দেখা মাত্রই তার হাত থেকে খাতাটা ধপ করে মেঝেতে পড়ে গেল।

"নিশান? তুমি... তুমি এখানে?" মেহেরীনের কণ্ঠস্বরটা কাঁপছিল। তার চোখে বিস্ময় আর আনন্দের এক বিচিত্র মিশ্রণ।

নিশান পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার মনে হচ্ছিল সে কোনো দিবাস্বপ্ন দেখছে। সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। দুই বছর! চব্বিশ মাস সে এই মুখটি দেখার জন্য প্রতিটি মোনাজাতে প্রার্থনা করেছে। আজ যখন সেই প্রার্থনার মানুষটি সামনে দাঁড়িয়ে, তখন তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। বুক ফেটে কান্না আসতে চাইছে, কিন্তু ঠোঁটে এক চিলতে হাসি।

মেহেরীন কয়েক পা এগিয়ে এল। তার চোখ দুটো চিকচিক করছে। সে নিচু স্বরে বলল, "তুমি কি আমায় চিনতে পারছ না নিশান হাসল। করুণ ভাবে অথচ অসম্ভব স্বস্তির হাসি। "চিনতে পারব না কেন মেহেরীন? দুই বছর তো খুব বেশি সময় নয়। আমি তো তোমাকে দুই হাজার বছর পরেও এই ভিড়ের মাঝলাইব্রেরির সেই নির্জন কোণে জগত-সংসার যেন অর্থহীন হয়ে গেল। বাইরের ছাত্রদের কোলাহল, ক্লাস শুরুর ঘণ্টা—সবকিছু যেন অন্য কোনো গ্রহের শব্দ। মেহেরীন নিচু হয়ে তার পড়ে যাওয়া খাতাটা তুলল। তারপর বুকভরা শ্বাস নিয়ে বলল, "আমি জানতাম তুমি এই কলেজেই আছ। সৌরভের কাছ থেকে সব শুনেছিলাম। গত ছয় মাস আমি শুধু প্রহর গুনেছি কবে তোমার সামনে এসে দাঁড়াব। বাবা আবার ঢাকায়ে চিনে নিতে পারতাম।"


নিশান? আমি মেহেরীন।"

সম্পর্কিত লেখা

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

একটি মন্তব্য লিখুন