26 October 2026
উপন্যাস

আটাশতম_শ্রাবণ (04)

রেদোয়ান আসিফ রিসান · প্রকাশ: 10 Sep 2026 · আপডেট: 25 Oct 2026 · 1 মিনিট পড়া · 54 ভিউ

মিরাজ কলমটা পকেটে রেখে নিশানের কানে কানে বলল, "সাদা জিনিস নোংরা হতে সময় লাগে না রে দোস্ত। সাবধানে থাকিস।"

নিশান কথা বাড়াল না। সে স্কুল গেটের সেই পুরনো বটগাছটার নিচে এসে দাঁড়াল। দেড় বছর আগে এখানে দাঁড়িয়ে মেহেরীন বলেছিল,"অপেক্ষা। আজ আকাশটা ঠিক আগের মতোই মেঘলা। একটু পরেই হয়তো নামবে শ্রাবণের বৃষ্টি।

নিশান তার পকেট থেকে সেই পুরনো সাদা খামটা বের করল। মেহেরীনকে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেওয়া হয়নি। সে খামটা খুলে নিজের কলম দিয়ে সেখানে ছোট একটা লাইন ল"আজ আমার স্কুল জীবনের শেষ দিন। আমার সাদা শার্টে আজ কারো নাম লেখা নেই মেহেরীন, কারণ সেখানে তোমার সেই চলে যাওয়ার দাগটাই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে আছে। দেড় বছর কেটে গেছে, আমি আজও সেই আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। তুমি কি আসছ?"

বৃষ্টি শুরু হলো। নিশান ভিজতে ভিজতে স্কুল গেট থেকে বের হয়ে গেল। সে জানত না, এই বৃষ্টির ওপাশেই কোনো এক নতুন শহরের কোনো এক স্কুল এর বারান্দায় কেউ একজন হয়তো ঠিক একইভাবে জানালার বাইরে তাকি 

 

 

কলেজ জীবনের প্রথম ছয়টি মাস নিশানের কাছে ছিল এক দীর্ঘস্থায়ী নির্জনতা। এসএসসির রেজাল্ট ভালো হওয়ায় ঢাকার এক নামকরা কলেজে তার নাম উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু নতুন পরিবেশ আর নতুন পোশাকের আড়ালে নিশানের সেই পুরনো মরচে ধরা বিষাদটা রয়েই গিয়েছিল। প্রতিদিন নীল রঙের শার্ট আর কালো প্যান্ট পরে যখন সে আয়নার সামনে দাঁড়াত, নিজেকে বড্ড অচেনা লাগত তার। এই ইউনিফর্মের ভেতরে যে মানুষটা আছে, সে যেন দুই বছর আগেই স্কুলের সেই ধুলোবালি মাখা মাঠে আটকে আছে।

কলেজের গেটে প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভিড় থাকে। কেউ দল বেঁধে হাসছে, কেউ নতুন বন্ধু বানাতে ব্যস্ত, কেউ বা প্রেমে মগ্ন। নিশান বরাবরের মতো এই কোলাহল এড়িয়ে চলে। করিডোর দিয়ে হাঁটার সময় তার চোখের সামনে বারবার ভেসে ওঠে স্কুলের সেই পুরনো বটতলা আর কাঠগোলাপ গাছের ছায়া। সে প্রায়ই ভাবত—সে কি কোনোদিন এই নতুনত্বের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে? মানুষের ভিড়ে থেকেও নিজেকে এত এসেদিন ছিল জানুয়ারির এক কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। রোদের তেজ কিছুটা কম, বাতাসে হাড়কাঁপানো শীত। নিশান ক্লাসে যাওয়ার আগে একটু শান্তি খুঁজতে কলেজের বিশাল লাইব্রেরিটার দিকে পা বাড়াল। লাইব্রেরির সেই পুরনো বইয়ের সুবাস তাকে এক ধরণের স্বস্তি দেয়। বুকশেলফ গুলোর মাঝখানে দাঁড়ালে মনে হয় সময়টা থমকে গেছে। সেকা কেন লাগে তার?

য়

ে আছে।

িখল:

করো"

সম্পর্কিত লেখা

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

একটি মন্তব্য লিখুন